বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শপথ অনুষ্ঠান, পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, তরুণ সমাজ এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সন্ধ্যায়অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের সভাপতি সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক সুমন বড়ুয়া বাপ্পী। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক তাপস বড়ুয়া। শপথবাক্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রমতোষ বড়ুয়া।
সভাপতির বক্তব্যে সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড বলেন, “তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করে সমাজ ও সম্প্রদায়ের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধের মৈত্রী, করুণা ও শান্তির আদর্শকে ধারণ করে আমাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
স্বাগত বক্তব্যে সুমন বড়ুয়া বাপ্পী বলেন, “বৌদ্ধ যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তরুণদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে।”
সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠের সময় তাপস বড়ুয়া বলেন, “সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে বুদ্ধের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।”

শপথবাক্য পাঠ করানোর সময় প্রমতোষ বড়ুয়া বলেন, “বুদ্ধের আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করতে হবে। মানুষের কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের সেক্রেটারি পার্থ বড়ুয়া বলেন, “তরুণদের সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে আসার পাশাপাশি সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করতে হবে।” ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বুদ্ধের সাম্য, মৈত্রী ও শান্তির আদর্শের আলোকে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, এবং ত্রিপিটক বিতরণ করা হয়।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তাও তুলে ধরে।
