নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইল – ২ আসনে (নড়াইল সদর আংশিক ও লোহাগড়া উপজেলা) নির্বাচনী প্রচারণায় যেয়ে শশুর বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন এলাকা থেকে চিতাই পিঠা খেল নৌকার প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা
গতকাল সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০ থেকে শুরু করে রাত ১০ পর্যন্ত লোহাগড়ার ৩ টি ইউনিয়ন কাশীপুর ইউনিয়ন, নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন ও শালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে, বাজারে, মন্দিরসহ নদী ভাঙ্গন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান নড়াইল – ২ আসনে নৌকার প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা।
নির্বাচনী প্রচারণায় মাশরাফি বলেন, আমাকে আল্লাহতালা অনেক কিছুই দিয়েছেন। এমপি হওয়ার আগে থেকেই ঢাকায় আমার ৩টি বাড়ি, ৪টি দামি গাড়ি রয়েছে। নড়াইল শহরে বাবা-মায়ের বসবাসের জন্য ২০১৫ সালে একটি বিলাসবহুল বাড়িও করে দিয়েছি। আমি ইচ্ছা করলে বাবা-মা, বউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে আরামে জীবন যাপন করতে পারতাম। এই শীতের মধ্যে পরিবার নিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাসায় যেয়ে শীতের পিঠাসহ ভাল ভাল খাবার খেতে পারতাম। সেটি না করে আমি অসুস্থ অবস্থায় আপনাদের সন্তানদের, আগামী প্রজন্মের শিশুদের কথা চিন্তা করে এই শীতের মধ্যে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, গ্রাম থেকে গ্রামে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে যেয়ে ধুলো খেয়ে বেড়াচ্ছি।
আমি কষ্ট করেছি। শুক্রবার ছাড়া আমি মন্ত্রণালয়ের দ্বারেদ্বারে ঘুরেছি, অফিস থেকে অফিসে আমি দৌঁড়েছি বলেই আজকে বড় বড় প্রকল্প নড়াইলে আসছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নড়াইলের উন্নয়নের জন্য ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছে যেটির কাজ চলমান। নড়াইলে ইউনিভার্সিটি হচ্ছে, আইটি পার্ক হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে। আমি মাত্র বাহক, এসব উন্নয়ন সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন নড়াইল বাসীর জন্য। নড়াইল সদর হাসপাতাল ১০০ বেড থেকে ২৫০ বেডে রূপান্তরিত করে দিয়েছি। কোন জেলারেল হাসপাতালে আইসিও নাই সেটি প্রধানমন্ত্রী নড়াইল বাসীর জন্য ১০ টি আইসিও বেড করে দিচ্ছেন। লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ বেড থেকে ৫০ বেড করে দিয়েছি। যেটি স্বাধীনতার পর থেকে কোন এমপি করে দেয়নি।
যদি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারে তাহলে কিছুদিনের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন।
মাশরাফি ৩ টি ইউনিয়নের ১৫/২০ টি পথসভায় বক্তব্যে আরও বলেন, আপনাদের ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখা করতে দেশের বাইরে যেতে হতো। এখন নড়াইলেই ইউনিভার্সিটি, আইটি পার্ক, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে।
আপনাদের সন্তানেরা নড়াইলে বসেই উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবে, ট্রেনিং নিতে পারবে। সন্তানরা বড় হয়ে তাদের পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারবে, নিজেরা ভালো থাকতে পারবে। তবে সেই জায়গাটা আমাদের তৈরি করে দিতে হবে। ৭ জানুয়ারি আপনারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মূল্যবান ভোটটি দেবেন। আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি আপনারাসহ আপনাদের সন্তানরা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আগামীদিনে আপনার সন্তানদের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিবেন।
চায়ের দোকানে বসে সবাই চাপাবাজী করতে পারে, মিস্টি কথা বলে ভোট চাইবে তবে বুঝতে হবে আপনার প্রজন্মের জন্য কে কাজ করছে। যদি কোন সিদ্ধান্ত নেন বুঝে শুনে নিবেন। ৭ জানুয়ারি আপনাদের ভাগ্য নির্ধারণের দিন। ৭ তারিখে যদি আমি জয়ী হতে পারি কথা দিচ্ছি ৮ তারিখ থেকে আমি আপনাদের সমস্ত দায়িত্ব আমার কাধে নিয়ে নিবো।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ আইয়ুব আলী, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার আঃ হান্নান রুনু, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া পৌর মেয়র সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়জুল হক রোম, লোহাগড়া যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান রাসেদ হাসান, শালনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লাবু মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চঞ্চল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য শেখ সদর উদ্দিন শামিম, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন ইতি, নোয়াগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি জোসেফ হোসেন প্রমুখ।
নড়াইল জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে দুটি পৌরসভা ও ২০ টি ইউনিয়নের মোট ভোটার ৩,৬৫,৭২৯ জন। এর মধ্যে ১,৮১,৯৯০ পুরুষ ভোটার ও ১,৮৩,৭৩৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন।
