নড়াইলে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা

লেখক:
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ৫:১৪

নড়াইল প্রতিনিধিঃনড়াইলে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকের।

নড়াইলের তিনটি উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শুধু হলুদের সমারোহ।

সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরিষা তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় সরিষার আবাদ কয়েক গুণ বেড়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এ জেলার কৃষকরা। ইতোমধ্যে সরিষা ক্ষেতে বীজ আসতে শুরু করেছে।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সরিষা আবাদের এমন চিত্রই দেখা গেছে।

লোহাগড়ার উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোঃ রাকিব হাসান বলেন দুই একর জমিতে বারি-১৭ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। বর্তমানে গাছগুলো খুবই ভালো হয়েছে, ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে কৃষকদের ১ কেজি সরিষা বীজ, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি সার বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে।

কালিয়া উপজেলার খাসিয়াল গ্রামের শওকত জানান, এবার তিনি ১ একর ৩৩ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। কালিয়া কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ দিয়েছে। সরিষা চাষের জন্য কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এজন্য ভাল ফলনের প্রত্যাশা করছি।

নড়াইল সদরের মুলিয়া গ্রামের মোঃ নাসির উদ্দীন জানান, এবার তিনি ১ একর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রথম থেকেই সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছি। যার কারনে আমারা প্রত্যাশা করছি এবারে সরিষার বাম্পার ফলন হবে।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার রায় বলেন, এ মৌসুমে নড়াইল জেলায় ১২ হাজার ৮৮৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছর এ পদ্ধতিতে আবাদ হয়েছিলো দেড় হাজার হেক্টরে। রিলে এবং সাধারণ পদ্ধতি মিলে গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে মোট আবাদ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন সবাই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় কৃষক জমি থেকে সরিষা তুলতে পারবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি জমি কাজে লাগাতে চাই। ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে চাই। এছাড়া এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে, সেই লক্ষে নড়াইল কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।