গৌরনদী প্রতিনিধি : বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় হাইওয়েতে পুলিশ টোকেনের মাধ্যমে মহাসড়কে যে সব ছোট বড় যানবাহন চলাচল করে তাদের কাছ থেকে সু- কৌশলে সপ্তাহিক ও মাসিক ভাবে চাঁদা তুলছেন গৌরনদী হাইওয়ের থানার কর্মরত টিএস আই মোঃ রুহুল আমিন এর বিরুদ্ধে। যাদের গাড়িতে টোকেন স্টিকার থাকেনা তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় মামলা।
একটি মামলা দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়ে গাড়ির মালিক বা চালকদের।বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গাড়ির মালিক ও চালকরা। অটোগাড়ীর চালক জসিম শেখ খোলা কাগজকে জানান আমার গাড়িতে স্টিকার না থাকায় আমার গতমাসে ছয় শত টাকা দিতে হয়েছে।দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে টরকী, গৌরনদী, মাহিলাড়া, বাটাজোর, সানুহার ও ইসলাদী পর্যন্ত যেসব যানবাহন এই সড়কে চলাচল করে তাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদা তুলছেন হাওয়ে থানার এসআই মোঃ রুহুল আমিন।
এবিষয় মাদারীপুর রিজিয়ন এর গৌরনদী থার্না কর্মরত টিএসআই বলেছেন আমরা কোন টোকেন স্টিকার দেই না। এটা মালিক সমিতে দেয়। তবে টাকার নেয়ার বিষয় মিথ্যা বলেছে। আমরা কোন গাড়ির কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেই না।যাদের গাড়িতে টোকেন থাকে তারা টোকেনের জন্য পার পেয়ে যায়। আর যাদের গাড়িতে টোকেন থাকেনা তাদের পরতে হয় বিভিন্ন ধরের ভোগান্তিতে। কখনও গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় থানায় দু’ চার দিন পরে আবার ফেরত দেওয়া হয়। এতে করে গাড়ির ব্যাটারীসহ গাড়ির অনেক সমস্যার সিকার হয়।থ্রি- হুইলার ব্যাটারী চালিত অটো’র প্রতিমাসে তাদের দিতে হয় ৫শত থেকে ৭শথ টাকা। মাহিন্দ্রা, পিক আপ, ট্রাক তাদের প্রতি মাসে কারও ৯শত আবার কারও ১ হাজার থেকে ১৫শত টাকা প্রতি মাসে দিতে হয়। যদি তাদের মহাসড়কে গাড়ি চালাতে হয়। না দিয়েও উপায় নেই এই সব গাড়ি’র চালকদের। আরও অভিযোগ করে পিক আপ চালক আকাশ গাজী বলেন মামলার ভয় দেখিয়ে ও কাগজপত্র দেখার নামে হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা ও প্রতিদিন চাঁদা নিচ্ছে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ গোলাম রসুল মোল্লা বলেছেন যে, যাদের গাড়ি’র কাগজপত্র ঠিক নাই আমরা তাদেরকে মামলা দেই। বরিশাল বিভাগ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার এই বিভাগে রয়েছে বরিশাল সদর জেলাসহ মোট ৬টি জেলা এর মধ্যে পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর। প্রবেশদ্বারখ্যাত বরিশাল জেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গৌরনদী উপজেলায় স্থাপিত হয়েছে হাইওয়ে থানা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধ করা এ গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের প্রধান কাজ। কিন্তু তারা নিজেরাই চাঁদাবাজিতে বেশি ব্যস্ত থাকেন।
গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ থানার চাঁদাবাজি নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে যানবাহনের মালিক, শ্রমিকরা। তারা দিন-রাত সমানতালে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হলেও অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।
