ছায়া দেখে বাঘের ডেরা থেকে ফিরে আসে সুন্দরবনে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা

লেখক:
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৬:১৭

মোংলা প্রতিনিধি : জলে কুমির ডাঙায় হিংস্রো বাঘ আর গাছের ডালে জড়িয়ে থাকে অজগরসহ বিষধর সব সাপ এর নাম সুন্দরবন। এই বনে সোমবার(২৬ফেব্রুয়ারী) পথভূলে হারিয়ে যায় ৩১ শিক্ষার্থী। বন বিভাগ বলছে, ওই শিক্ষার্থীরা বাঘের ডেরায় ঢুকে পড়ে ছিলো। ভাগ্য প্রসন্ন হওয়ায় ওই দিনই উদ্ধার হয়। তবে তাদের উদ্ধারের অভিযান ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। । বর্তমানে সুস্থ্য অবস্থায় তারা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার উদ্ধার সেই অভিযানে লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করেছেন মোংলা থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ৩১ সদস্যের একটি শিক্ষার্থী সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরতে যান। করমজল বন্যপ্রাণি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তারা হেঁটে বনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাঁটতে হাঁটতে তারা কখন যে গহিনে চলে যান তা বুঝতে পারেননি। পরে ফেরার চেষ্টা করলে তারা পথ হারিয়ে ফেলেন। তাদের মধ্যে ফেরদৌস ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করে সাহায্য চান।

ওসি বলেন, “জরুরি সেবা থেকে থানায় বিষয়টি জানালে আমরা বনবিভাগকে জানাই। পরে সেই পর্যটকের নম্বরে ফোন করে তাদের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।

ফোনে তাকে বলি, ‘সূর্য এখন কোথায়? যদি সূর্য তোমাদের মাথার উপরে থাকে তাহলে ছায়া যেদিকে পড়বে তোমরা সেই ছায়া দেখে দেখে হাঁটতে থাক। আর বনের ভেতরে ঢোকার সময়ে তোমাদের কাছে থাকা ফোনে যেসব ছবি বা ভিডিও করেছো তা দেখে মিলিয়ে নাও।

ছবি মিলে গেলে বুঝতে তোমরা ঠিক পথে হাঁটছ। এভাবে নিজেদের শরীরের ছায়া ও ছবি দেখে দেখে এক ঘণ্টার বেশি সময় হেঁটে করমজল বন্যপ্রাণি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে তারা ফিরে আসেন।”

ফোনে তাদের সঙ্গে প্রতি পাঁচ থেকে সাত মিনিট পরপর খবর রাখা হয়; তাদের এই ফিরে আসা দারুণ শ্বাসরুদ্ধকর ছিল বলে জানান ওসি আজিজুল।

শিক্ষার্থীদের দলে থাকা ফেরদৌস রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “সুন্দরবনে আগে কখনো আসিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আমরা ৩১ জন বনে আসি। সবাই হেঁটে বনের ভেতরে ঢুকি। গাছপালা দেখতে দেখতে কখন যে গহীনে চলে যাই বুঝতে পারিনি।

যখন মনে হয়েছে আমাদের এখন ফেরা উচিত তখন আবার হাঁটা শুরু করি। আমরা হাঁটছি কিন্তু পথ ঠিক আছে কিনা তা বুঝতে পারি নাই। চারিদিকে শুধু গাছপালা। পথ হারানোর পর কয়েকজন ভয় পায়। তখন বুদ্ধি করে ‘৯৯৯’ এ ফোন করে সাহায্য চাই।”

ফেরদৌস বলেন, “পুলিশের সহযোগিতা না পেলে আমরা ফিরতে পারতাম কিনা জানি না। তবে সুন্দরবন দেখতে এসে দারুণ অ্যাডভেন্সার হয়েছে। এটা জীবনেও ভুলতে পারব না।”

করমজল বন্যপ্রাণি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনে ঘুরতে আসা ওই শিক্ষার্থীরা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন। তারা বনবিভাগকে না জানিয়ে নিয়র নীতি তোয়াক্কা না করে বনের এদিক ওদিক ঢুকে পড়েন। তারা যেখানে গিয়েছে সেখানে প্রাই বাঘ দেখা যায়। অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আমরা ফোনে তাদের ফেরার কৌশল বলে দিলে তারা ফিরে আসেন বলে জানান তিনি।