মীর মশিউর রহমান, বাউফল প্রতিনিধি:: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। বাউফল উপজেলায় একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তার মধ্যে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন উইং কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত খ ম মশিউর লাবু।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় রমজানের মধ্যেই নির্বাচনী তফসিল হতে পারে।
আগামী ১১ ই মে বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা সরগরম হচ্ছে। এখন বাউফল উপজেলা জুড়ে ভোটারদের মধ্যে হিসাব নিকাশ শুরু হয়েছে। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কে কে প্রার্থী হচ্ছেন। কাকে ভোট দিবেন কে ভালো কে মন্দ। কে কোন দলের কে কোন গ্রুপের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
দলীয় সুত্রে জানা যায় বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।
দলীয় গ্রুপের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এম পি । অপরদিকে রয়েছে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাউফল আলোকিত পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। আরো রয়েছে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার। এসব গ্রুপিং এর কারণে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন ভাবে ভিবক্ত হয়ে পড়েছে। এসব গ্রুপিং এর কারণে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত, সংঘর্ষের ঘটনা ও ঘটেছে।
এমনকি কয়েকজন নেতাকেও প্রাণ দিতে হয়েছে।আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় শতেক খানিক মামলাও রয়েছে এরা কিন্তু আওয়ামী লীগের লোক। তারপরও মামলার আসামি তারা। তারই মধ্যে থেকে খ ম মশিউর রহমান লাবু রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এম পি এর অনুসারী। মশিউর রহমান লাবুর নির্বাচনী সম্ভাব্যতা যাচাই করে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক আজকালের কণ্ঠকে বলেন। আমি রাজনৈতিক পরিবার এর সন্তান। আমরা ছোট্ সময় থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমি ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ৮৫ -৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি।
আমি আমার শিক্ষাজীবন শেষ ১৯৯০ সালে ২৫ জিডি(পি) কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগদান করি। বিমান বাহিনীর একাডেমিক থেকে পাইলট অফিসার হিসাবে ১৯৯৩ সালে কমিশন লাভ করি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হই।।চাকরি কালীন অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকো প্রশাসন এ প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার ডিগ্রী অর্জন করি।
বিপিএটিসি সাভার থেকে অ্যাডভান্স কোর্স অন পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ও আইটি এন্ড-ই গভারর্নেন্স ইস্ট্রান এশিয়া ইউনিভার্সিটি থাইল্যান্ড থেকে ওয়াস্টি ম্যানেজমেন্ট এর উপর ডিপ্লোমা কোর্স সম্পূর্ণ করি। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ বিদেশ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ কৃতিত্বের সাথে সম্পূর্ণ করি। জাতিসংঘের মিশন সহ অনেক দেশ ভ্রমন করি।অতঃপর দীর্ঘ ৩০ বছর চাকুরি জীবন সফলতার সাথে সম্পূন্ন করে ২০২০ সালে উইং কমান্ডার পদবীতে অবসরে আসি। আসার পরে যেহেতু আমার পরিবার রাজনৈতিক পরিবার।
সে ক্ষেত্রে আমি রাজনৈতিক মাঠে, রাজনৈতিক সমাবেশে, রাজনীতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করি। আমার বাবা মরহুম ডাক্তার আব্দুল খালেক বিশ্বাস নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীল এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। আমার বাবা নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে আমার ছোট ভাই এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
আমার পরিবার সব সময়ই জনগণের পাশে ছিল আছে আগামী দিনেও থাকবে। সবসময়ই গরিব,অসহায় দুস্ত মানুষের পাশে ছিলাম এবং আগামীতে ও থাকবো। আমরা সবসময়ই ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত আছি। আমার পারিবারিক জীবনে আমরা পাঁচ ভাই, চার বোন।আমার বড় ভাই মঞ্জু বিশ্বাস বিমান বাহিনীতে সার্জেন্ট পদে ছিলেন, মেজ ভাই আনিসুর রহমান নারায়ণগঞ্জের জেলা দায়রা জজ ছিলেন তার চাকুরি জীবনে সর্বশেষ বরগুনা জেলার জেলা ও দায়রা জজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আমার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস ঢাকা জজ কোর্টের একজন বিজ্ঞ আইনজীবী।
আমি জনগণের কাছ থেকে নিতে আসি নাই। আল্লাহ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন আমরা জনগণকে দিতে এসেছি। আমি চাই বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার মা আমাদের প্রিয় অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগামী স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাউফল উপজেলা একটি স্মার্ট উপজেলা হিসেবে পরিণত করতে।এবং মাদকমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত,দুর্নীতি মুক্ত, বাউফলের রাজনৈতিক সহিংসতা দূর করে একটি স্মার্ট উপজেলা গরাই আমার লক্ষ্য।
উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন এইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা নেই। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকতে পারে।দলীয় সমর্থনের ব্যাপারে তারা বলেন উইং কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত খ ম মশিউর রহমান লাবু আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।সমর্থনের ব্যাপারে খ ম মশিউর রহমান লাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি আজকালের কন্ঠ কে বলেন,আওয়ামী লীগের সংগঠনে যে আমাদের অবদান তাতে করে অবশ্যই উপজেলা আওয়ামী লীগ আমাকে দলীয় সমর্থন দিবেন। এটা আমার বিশ্বাস।
এলাকায় কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায় যে। উইং কমান্ডার খ ম মশিউর রহমান লাবু এর পরিবার অনেক আগ থেকে রাজনৈতিক পরিবার তারা সব সময় আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে। খ ম মশিউর রহমান অত্যন্ত মেধাবী,উচ্চ শিক্ষিত,সহজ সরল, মিশুক, হাসি, খুশি, সৎ, বিনয়ী নির্লোভ, সাদা মনের একজন মানবিক মানুষ। ভোটারদের মতে এমন একজন মানুষ যদি নির্বাচনে আসেন আমরা তাকে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানাই। আমাদের বিশ্বাস তার মতো একজন মানুষ জনসেভায় নিয়োজিত থাকলে জনগণ অবশ্যই উপকৃত হবে। আমরা তাকে ভোট দিয়ে বিজয় করব।
