বাকেরগঞ্জে ১৮ বছরেও হয়নি যুবলীগের কমিটি উপজেলা যুবলীগ এখন অভিভাবকহীন!

লেখক:
প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৪, ১২:২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :- বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০২ সালে। এর পর প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো সম্মেলন বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। উক্ত কমিটিতে লোকমান হোসেন ডাকুয়া সভাপতি ও মোকলেচুর রহমান সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর মাঝখানে ২০১২ সালে সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ মাঠে এক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুবলীগের সভাপতি লোকমান হোসেন ডাকুয়াকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালে বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মডেল হাই স্কুল মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো শামসুল আলম চুন্নুকে সভাপতি ও লোকমান হোসেন ডাকুয়াকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। অথচ যুবলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক বছর আগেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গরূপে কমিটি গঠন হয়নি।

এ ছাড়াও মেয়াদ নেই উপজেলা ছাত্র লীগের কমিটির। ২০১১ সালে সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া সভাপতি ও সৈয়দ রিপন সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা ছাত্র লীগের কমিটি করা হলেও এখন তা এক যুগ পার হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি এক বছর মেয়াদ থাকার কথা থাকলেও এখন তা ১৩ বছরে পা রেখেছে। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী লীগের অন্যতম এই দুই সহযোগী সংগঠন বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় সম্মেলন না হওয়ায় সংগঠনগুলোর পদ প্রত্যাশীসহ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘ বছর ধরে। এমন পরিস্থিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটির ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ তারা। হাতেগোনা দুই একজন ছাড়া তেমন কোনো নেতাকর্মীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। দলীয় সুযোগ-সুবিধা থেকেও উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা সুবিধা বঞ্চিত। আর এর সবচেয়ে বড় কারণ অভিভাবকহীন নেতৃত্ব।

উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের তৃণমূলে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যুবলীগ। দলের কোথাও জায়গা না পেয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন অনেকেই। সামনে যখন দলের দুর্দিন আসবে, তখন আন্দোলনের মাঠে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রæত সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা যুবলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে।

অপরদিকে যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কমিটির সভাপতি লোকমান হোসেন ডাকুয়া চলে গেছেন মূল দলে। দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগকে সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও টানা তৃতীয় বারের মত পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েদায়িত্ব রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা যুবলীগ কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা পড়েছেন আরও বিব্রতকর অবস্থায়। তারা এখন কোন দলের পরিচয় দিয়ে মাঠে নামবেন! সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না অনেকে।

দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রমও চোখে পড়ছে না। দলীয় কর্মীদের নিস্ক্রিয়তার কারণে ফাটল ধরেছে এখন উপজেলা আওয়ামী লীগে। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ামত আব্দুল্লাহ পলাশসহ অনেক নেতারাই উপস্থিত থাকেন না। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তি স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নুর পক্ষে বরিশাল সিটি নির্বাচনে গণসংযোগে উপজেলার যে সকল নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন তারা অনেকেই পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার সাথে সিটি নির্বাচনে গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা থুবড়ে পড়েছে। টানা তিনবার ক্ষমতায় যে দলটি, সেই দলের ঐতিহ্যবাহী সহযোগী সংগঠনগুলোর এমন দুর্দশায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্যানেল মেয়র মোকলেচুর রহমান বলেন, আমরা যারা যুবলীগ করতাম তারা এখন আর যুবক নেই। নিজেও জানি না কেন যুবলীগের কমিটি হচ্ছে না। হয়তো কেন্দ্র থেকেই নিষিদ্ধ আছে। তবে নতুন কমিটি হলে সংগঠনের প্রাণ ফিরে পায়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রিপন বলেন, নিয়মিত কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা সব ঝিমিয়ে পড়েছে। অনিশ্চয়তায় পড়ে দল করার মানসিকতাই হারিয়ে ফেলেছে অনেকে। উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত ছাত্র লীগ যুবলীগের সকল ইউনিটের কমিটির মেয়ার উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। তাই সংগঠনের প্রাণ ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

উপজেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটির সভাপতির ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্র লীগের নতুন কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্মেলনের মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের কমিটি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আগস্ট মাসের মধ্যে এই কমিটি হতে পারে।