শেরপুর-১ আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে নবনির্বাচিত এমপি ছানুর সংবাদ সম্মেলন

লেখক:
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ৫:৪৭

বিশেষ প্রতিনিধি শেরপুর : শেরপুর সদর-১ আসনের সাবেক এমপি মো. আতিউর রহমান আতিক কর্তৃক সম্প্রতি মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু।

২২ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের নিউমার্কেট ছানুর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নবনির্বাচিত এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু, শেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর রুমান, শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলামের আয়োজনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নবনির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু বলেন, গত ৭ জানুয়ারি উৎসবমুখর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে কারচুপিমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। শেরপুর সদর-১ আসনে প্রায় ৫৫ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। শেরপুর-২ ও শেরপুর-৩ আসনে প্রায় ৫১ ভাগ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। তিনটি সংসদীয় আসনের ৪২৪টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। একটি কেন্দ্রে গোলযোগ হওয়ায় ভোট বাতিল করা হয়। নির্বাচনে শেরপুর সদর-১ আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছানুয়ার হোসেন ছানু, শেরপুর ২ আসন থেকে সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী ও শেরপুর ৩ আসন থেকে এডিএম শহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। তিনটি আসনে মধ্যে একটিতে স্বতন্ত্র ও দুইটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিপুল ভোট বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা। সেই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের ভূমিকা ছিল সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ। তারা শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিয়েছে। নির্বাচনের পরে সাংবাদিকরা অবাধ ও কারচুপিমুক্ত নির্বাচন হয়েছে বলে পত্র-পত্রিকার ও টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করেছেন। এছাড়াও প্রশাসনের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল বলে মতামত দিয়েছে।

কিন্তু এত ভালো নির্বাচন হওয়ার পরেও শেরপুর সদর আসনের পরাজিত প্রার্থী সাবেক এমপি আতিউর রহমান আতিক নিবাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বিএনপি-জামায়াতের ভাষায় কথা বলছেন এবং তাদের উৎসাহিত করছে। নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি রাস্তা ঘাট অবরোধসহ জেলা অচল করে দেওয়ার কথা বলেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিস্বার্থে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনকে বিতর্কিত করে সরকার ও আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলতে চান। দায়িত্বশীল নেতার আচরণ এমন হতে পারে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব করে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

গত ২৫ বছর শেরপুরের চরশেরপুর, কামারেরচর চরমোচারিয়া, চরপক্ষীমারী লছমনপুর, বলাইয়েরচর, বাজিতখিলা ও গাজীরখামার এবং পৌর এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড করেনি। এলাকার মানুষ উন্নয়নের দাবি করলে আতিউর রহমান প্রকাশ্যে বলতেন, পশ্চিম এলাকার ভোট তার প্রয়োজন নেই। তাই জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ও একাট্টা ছিলো। তারই প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে। এ এলাকার মানুষ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তাঁর অহমিকা, দুর্নীতি, অপশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনে আতিক ২৮ কেন্দ্রে কম ভোট পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু কামারিয়া, রৌহা, ধলা ইউনিয়নের একাধিক কেন্দ্রে ট্রাক মার্ক নগন্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে এবং সেটাই স্বাভাবিক। সেটা নিয়ে আমরা কোনো প্রশ্ন তুলি নাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় এবং তিনি এতটাই জনসমর্থনহীন ছিলেন যে, নির্বাচনে তার নিজ ইউনিয়ন কামারিয়া রঘুনাথপুর তাজুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে তিনি হেরে গেছেন।

তিনি দলকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করতেন। বিগত ২৭ বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারো নামে কোন প্রতিষ্ঠান করেননি। তিনি আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। ধর্মীয় সংগঠন থেকে শুরু করে প্রতিটি সংগঠনে তিনি নিজের পছন্দের লোককে বসিয়েছেন। তিনি কাউকে মানুষ মনে করতেন না। এটা হতে পারে অহংকার পতনের মূল। অহংকার ও দুর্নীতির কারণে তিনি জন বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি জাতির পিতার আদর্শের রাজনীতি করি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার নেতা। তাই অন্যায়, দুর্নীতি ও অতাচারীর বিরুদ্ধে আমরা কণ্ঠ সবসময় সোচ্চার থাকবে। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে জনমতের সুন্দর প্রতিফলন ঘটেছে। এ নির্বাচন যাতে কেউ বিতর্কিত করতে না পারে সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর রুমান, শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন।

এসময় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম, শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, সাবেক সহ-সভাপতি মোছাদ্দেক ফেরদৌসী,সাবেক প্রচার সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুন্নাহার কামাল, সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, জেলা পরিষদ সদস্য ফারহানা পারভীন মুন্নী, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও কামারেরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন