ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক সহযোগিতায় নিজ বাড়িতে : মরিয়ম

লেখক:
প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,কেরাণীগঞ্জ : কেরাণীগঞ্জে কথিত আব্বা বাহিনীর হাতে পৈচাশিক নির্যাতনে রাসেল নামক এক যুবক হত্যাকান্ডের পর একর পর এক বেড়িয়ে আসছে আব্বা বাহিনীর নানা অপকর্মের খতিয়ান। তার মধ্যে চর মীরের বাগের মরিয়মের বাড়ি দখলও ছিলো তাদের এ ধরনের জঘন্যতম অপরাধের একটি।

আলোচিত রাসেল হত্যাকান্ডের মূল হোতা আফতাব উদ্দিন রাব্বিসহ আব্বা বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের রেশ ধরে আলোচনায় আসে মরিয়ম বেগমের বাড়ি দখলের ঘটনাটিও। এরজের ধরে সাহসনিয়ে গত ৩ফেব্রুয়ারি ঢাকাজেলা পুলিশ সুপার বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মরিয়ম। অভিযোগ পেয়ে বাড়িটি দখলমুক্ত করে মরিয়মকে ফিরিয়ে দিতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো.আসাদুজ্জামান।

সে মোতাবেক আজ ৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত সরজিৎ কুমারের নেতৃত্বে ইকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের একটি দল বাড়িটি দখলমুক্ত করে ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেন। এসময় আবেগ আপ্লুত হয়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

এ সময় মরিয়ম বেগম বলেন, শুভাঢ্যার চর মীরেরবাগ এলাকায় এক যুগের বেশি সময় আগে একখন্ড জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মান করে পাঁচ শিশুসন্তান নিয়ে ওই বাড়িতেই সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন ব্যবসায়ী আবিদ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম। কিন্তু বাড়ির সামনে আব্বা বাহিনীর সদস্যদের মাদক বিক্রিতে বাধা এবং শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যানের লোকদেও নানা অপকর্মের বিরোধিতা করায় গত বছরের এপ্রিলে তাঁদের বাড়িতে হামলা করে লুটপাট চালান আব্বা বাহিনীর সদস্যরা। তখন আব্বা বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশু সন্তানদের নিয়ে তিনদিন গৃহবন্দী থাকার পর ৯৯৯ ফোনের মাধ্যমে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। সেই থেকে তাঁরা এলাকাছাড়া। এই সুযোগে বাড়িটি দখল করে নেয় আব্বা বাহিনীর সদস্যরা। এর পর থেকে বাড়িটি দখলমুক্ত করে নিজ বাড়িতে বসবাসের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। কিন্তু কোথাও তিনি এর কোন প্রতিকার পাননি। এমনকি থানা পুলিশও তখন তার মামলা পর্যন্ত নেয়নি। অথচ ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ পেয়ে মাত্র দ্’ুদিনের মাথায় তার সেই বাড়িটি আবার দখল মুক্ত করে ভুক্তভোগীর কাছে ফিরিয়ে দিলেন ঢাকা জেলার মানবিক পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান।

পুলিশের মাধ্যমে দখলকারিদের তালা ভেঙ্গে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে আজ স্বস্তির নি:শ্বাস তার।