আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাহারি রকমের জিনিস পত্র। জেলার নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের ৬০-৭০ পরিবারের প্রায় তিনশত নারী ও পুরুষ শীতলপাটি তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জরিত। নানা প্রতিকুলতা থাকার পরেও শত বছরের এ পেশা টিকিয়ে রাখছে তারা। তবে শীতলপাটিকে জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষনা করে এটি বাজারজাত করতে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত কামদেবপুর গ্রাম। এখানের জমিতে চাষ হওয়া ‘পাটিবেত’ বা মুর্তা নামক ঘাষ উদ্ভিত পাটি তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এ থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে পাটি বোনা হয়। পাটি তৈরির সঙ্গে জরিতদের পাটিয়াল বা পাটিকর বলা হয়।
আকার ভেদে একটি পাটি বুনতে একজনের ৫-৬ দিন লাগে। মজুরি পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক একটি পাটি বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে এই উৎপাদিত পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিন্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে প্লাস্টিকের পাটি বাজারে আসায় হাতে বোনা এই পাটির কদর কমেছে। এতে পাটিকররা তাদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পাটি দিয়ে শো-পিস, কলমদানি, ব্যাগ, টিস্যু বক্স সহ বাহারি রকমের জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করছেন।
তবে সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বর্তমানে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তারা পাটিকরদের সহজশর্তে ঋন দিচ্ছে, পাশাপাশি এই পন্যের বহুমুখিকরণ এবং বাজারজাত করনেও কাজ করছে।
