মেটাবলিজম হচ্ছে আপনার শরীরের এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে খাবারের পুষ্টি উপাদান শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এককথায় যাকে বলে, আপনার শরীরের সব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সমষ্টিই হচ্ছে মেটাবলিজম।
কিন্তু এই মেটাবলিজমের গতি আবার একেক মানুষের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ধীর হতে থাকে। আবার পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত মাংসপেশির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাদের ক্যালোরি খরচের হারও তুলনামূলক বেশি হয়।
শুধু তাই নয়; প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা পরপর কিছু খেলে মেটাবলিজম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—এমন ধারণায় কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং নিয়মিত শরীরচর্চা, সক্রিয় জীবনযাপন এবং শরীরের গঠন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই বেশি ক্যালোরি পোড়ানো ও সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়।
যদি লক্ষ্য হয় শরীরের শক্তিব্যয় কিংবা ক্যালোরি পোড়ানো বাড়ানো, তাহলে বারবার খাবার খাওয়ার চেয়ে শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয় হওয়াই অনেক বেশি কার্যকর। আর ‘শক্তিব্যয় বাড়াতে চাইলে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে— আরও বেশি নড়াচড়া করা।’
এ ছাড়া আপনার শরীরে মাংসপেশির পরিমাণ যত বেশি, ক্যালোরি পোড়ানোর হারও তত বেশি হয়। অন্যদিকে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে তুলনামূলক কম শক্তি ব্যয় হয়। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও শরীরচর্চা মেটাবলিজমের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
অনেকেই মনে করেন, প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর কিছু না কিছু খেলে আপনার শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। আর মেটাবলিজম বাড়লে বেশি ক্যালোরি পোড়ে, সে কারণে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন কমানো বা ফিট থাকার নানা পরামর্শে এ ধারণা প্রায়ই শোনা যায়।
আসলে বাস্তবে সত্যিই কি এমনটি ঘটে? এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের মেটাবলিক ফিজিওলজির অধ্যাপক জেমস বেটস বলেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আপনার শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখে, শরীরের গঠন বজায় রাখে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি বলেন, মানুষ যখন ‘মেটাবলিজম’ বাড়ানোর কথা বলে, তখন আসলে তারা শরীরের মেটাবলিক রেট বা নির্দিষ্ট সময়ে শরীর কতটুকু শক্তি খরচ করে, সেটিকেই বোঝায়।
মানুষের দৈনিক শক্তি ব্যয়ের তিনটি প্রধান উৎস রয়েছে। এর মধ্যে— বিশ্রাম অবস্থায় শরীরের শক্তি ব্যয় (অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও টিস্যুর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে যে শক্তি লাগে); খাবার হজম ও শোষণের সময় ব্যবহৃত শক্তি এবং শারীরিক পরিশ্রম ও চলাফেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসে শারীরিক কার্যকলাপের কারণে।
জেমস বেটস বলেন, ‘মানুষ যখন বলে তারা মেটাবলিজম বাড়াতে চায়, তখন আসলে তারা বেশি শক্তি খরচ করতে চায়। কিন্তু বিশ্রাম অবস্থায় শরীর যে শক্তি খরচ করে, তা বেশ পূর্বানুমানযোগ্য এবং সাধারণত শরীরের ওজন, বয়স ও লিঙ্গের মতো বিষয় দিয়েই তা অনুমান করা যায়।’
বারবার খেলে যা হয়
১. গড়ে একজন মানুষ যে ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তার প্রায় ১০ শতাংশ খাবার চিবানো, হজম করা এবং পুষ্টি উপাদান শোষণের কাজে ব্যয় হয়।
২. খাবার হজম করতেও আপনার শরীরের কিছু শক্তির প্রয়োজন হয়। এটিকে বলা হয় থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড।
৩. তবে এ কারণেই বারবার খেলে মেটাবলিজম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়— এমন ধারণা ঠিক নয়।
