চুল পড়া রোধে কোন চিকিৎসাগুলো আসলেই কার্যকর? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত

লেখক:
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৩

চুল পড়া রোধে এবং নতুন চুল গজাতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বেশ কিছু কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। চুল পড়ার আসল কারণ এবং তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে এই চিকিৎসাগুলো নির্বাচন করা হয়। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই চুল পাকা ও চুল ওঠা শুরু করে। কারণ মধ্যবয়সে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে চুলের সমস্যা বাড়ে।

এ সমস্যা সমাধানে বাজারে চুল পড়া রুখতে নানা ধরনের মেডিসিন পাওয়া গেলেও সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত চুল পড়ার ওষুধ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

চুল পড়া রুখতে বাজারে সব পণ্য বা অনলাইন বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে, কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে এমন চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত। আর চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক অস্বস্তি তৈরি হওয়াকেও হালকা করে দেখা উচিত নয়। কারণ চুল পড়া সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে, চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। মিনোক্সিডিল সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, চুল পড়া রুখতে কার্যকর কোন চিকিৎসা পদ্ধতি দরকার—

ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা

১. মিনোক্সিডিল : এটি মাথার ত্বকে ব্যবহারের লিকুইড বা ফোম হিসেবে পাওয়া যায়। এটি রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে নারী ও পুরুষ উভয়ে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

২. ফিনাস্টেরাইড : এটি পুরুষের বংশগত টাক পড়া বা অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়ার জন্য মুখে খাওয়ার একটি ট্যাবলেট। এটি ডিএইচটি হরমোনের মাত্রা কমিয়ে চুল পড়া রোধ করে। তবে গর্ভবতী নারীর জন্য ফিনাস্টেরাইড নিরাপদ নয়।

৩. কোর্টিকোস্টেরয়েড: ‘অ্যালোপেসিয়া আরেটা’ (প্যাঁচ আকারে চুল পড়া বা গোল হয়ে টাক হওয়া) সমস্যায় স্ক্যাল্পে ইনজেকশন বা ক্রিমের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা হয়।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

১. পিআরপি থেরাপি: রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা করে মাথার ত্বকে ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

২. লো-লেভেল লেজার থেরাপি: রেড লাইট বা লেজার ডিভাইসের মাধ্যমে স্ক্যাল্পের স্টেমসেল উদ্দীপ্ত করা হয়, যা চুল ঘন করতে সাহায্য করে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পুষ্টি

১. সুষম খাদ্য: ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন (ডিম, ডাল, মাছ, মাংস), আয়রন, বায়োটিন ও ভিটামিন ডি রাখা জরুরি।

২. চুলের যত্ন: অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং (স্ট্রেইটনার, হেয়ার ড্রায়ার), চুলে অতিরিক্ত টান পড়া স্টাইল এবং মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা উচিত।