মেয়েকে স্বামীর সংসার থেকে ফিরিয়ে মায়ের দুধ দিয়ে গোসল

লেখক:
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৫

মেয়েকে স্বামীর সংসার থেকে ছাড়িয়ে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারলে দুধ দিয়ে গোসল করার ‘ওয়াদা’ করেছিলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর জুলেখা বেগম (৪৬)। মেয়ের ১৪ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে তাঁকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনার পর সেই ওয়াদা পূরণ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করেন জুলেখা। এ সময় কেউ কেউ ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জুলেখা বেগম উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বাইখীর গ্রামের মহাশিন মোল্লার (৭৪) স্ত্রী।

তাঁদের মেয়ে মনিরা খাতুন (৩০)। প্রায় ১৪ বছর আগে পাশের গুনবহা ইউনিয়নের গুনবহা গ্রামের সুমন শেখের (৩২) সঙ্গে মনিরার বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সম্পর্কে তাঁরা খালাতো ভাই-বোন।

জুলেখার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে স্বামী মারধর ও নির্যাতন করতেন। সুমন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মেয়েকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধের পর দুই দিন আগে কাবিন রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে মনিরা ও সুমনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা মনিরাকে স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে আসেন।

জুলেখা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

স্বামী নেশা করে মেয়েকে মারধর করত। মেয়েকে নিয়ে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে ছাড়িয়ে আনতে পেরেছি। তাই আমার ওয়াদা অনুযায়ী দুধ দিয়ে গোসল করেছি।’

মনিরার বাবা মহাশিন মোল্লা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী নির্যাতন ও মারধর করতেন। তিনি নেশা করতেন। মেয়েকে নিয়ে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। পরে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে আমার স্ত্রী দুধ দিয়ে গোসল করেছেন।’

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন বলেন, মনিরার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সুমন শেখ নেশার সঙ্গে জড়িত বলে শুনেছেন। এ কারণে বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে মনিরার সাবেক শাশুড়ি দুধ দিয়ে গোসল করেছেন।

তবে স্ত্রীকে নির্যাতন ও নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন শেখ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন ব্যবহারকারীরা।